August 9, 2026, 10:54 am
বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শেরপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ আহম্মেদ ওরফে সুমন (৩৬), শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মানিক শেখসহ (৩১) চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আজ সোমবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে শেরপুর পৌর শহরের পুরাতন বাঁশপট্টি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অপর দুজন হলেন মোহাম্মদ হাসান (২৫) ও ফেরদৌস বাবু (৩৫)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবুর পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলায় আহত মোহাম্মদ হাসান বলেন, তাঁর সঙ্গে আগে থেকেই শেরপুর শহরের পোদ্দারপাড়া এলাকার মো. বনির (২৫) বিবাদ ছিল। আজ বিকেলে তিনি শহরের পুরাতন বাঁশপট্টি এলাকায় যমুনা ইলেকট্রনিকস শোরুমের সামনে গেলে বনিসহ প্রতিপক্ষের চারজন অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় তাঁকে উদ্ধারে তিনজন এগিয়ে এলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে চারজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন এ সময় এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত যমুনা ইলেকট্রনিকস শোরুমের ব্যবস্থাপক ফেরদৌস বাবু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মো. বনির মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত যমুনা ইলেকট্রনিকস শোরুমের ব্যবস্থাপক ফেরদৌস বাবু। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় তিনজন যুবক বলেন, হামলাকারীদের হাতে ধারালো ছোরা ছিল। আশপাশের কেউই বিষয়টি লক্ষ করতে পারেননি। হামলার পর তাঁরা দেখতে পান, আহত ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝরছে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সটকে পড়েন।
জানতে চাইলে শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ছাম্মাক হোসেন বলেন, হামলার সংবাদ জানার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা দ্রুত সটকে পড়েন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এই হামলার ঘটনায় রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পরই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।